Sunday, November 27, 2022
প্রচ্ছদখুলনা বিভাগকুষ্টিয়াভেড়ামারায় জিকে সেচ প্রকল্পের মুখে পলি ও বালি মাটির স্তুপ

ভেড়ামারায় জিকে সেচ প্রকল্পের মুখে পলি ও বালি মাটির স্তুপ

Published on

পদ্মার পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জিকে সেচ প্রকল্প। হার্ডিঞ্জ ব্রীজের কাছে পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জিকে সেচ প্রকল্পের ইনটেক চ্যানেলের প্রবেশ মুখে বিশাল চর জেগে ওঠায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল পদ্মা নদী এখন যেখান দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তার সাথে ইনটেক চ্যানেলের সংযোগ ঘটাতে হলে জেগে ওঠা বিশাল চরের পলিমাটি অপসারন করতে হবে। আর এজন্য প্রায় ৫‘শ ৫০ মিটার পদ্মা নদী ড্রেজার দিয়ে খনন করা প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ৪ কোটি টাকা ড্রেজিং কাজে ব্যয় হবে। সূত্র মতে, ফারাক্কা বাঁধের অশুভ প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় জিকে সেচ প্রকল্প এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জিকে সেচ প্রকল্প প্রয়োজনীয় সংস্কার হলে ৪ জেলার ১৩ উপজেলার হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদে সুফল পেত। ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটতো এতদাঞ্চলের কৃষক পরিবারের।

কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার কৃষির গুণগত মান, স্বল্প ব্যয় এবং অধিক উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মা নদীর তীরে গঙ্গা কপোতাক্ষ (জিকে) নামের দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

সে সময় প্রকল্পের আওতায় ৪ জেলার ১৩ উপজেলার ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমি প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের আওতাধীন সব জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হলেও পরে পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় পাম্পের প্রধান ইনটেক চ্যানেলের মুখে পলি ও বালুচর জমে উঠে। পানি না থাকায় একে একে ভরাট হয়ে যায় জিকে প্রজেক্টের খালগুলো। পানির অভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ইনটেক চ্যানেল ছাড়াও পদ্মার উজান মুখে ড্রেজিং করে সেচ প্রকল্পটি চালু রাখা হয়।

সে কারণে প্রতি বছর হ্রাস পাচ্ছে প্রকল্পটির আওতাধীন জমির পরিমাণ। প্রকল্পটির জমির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬হাজার একরে। জি,কে সেচ প্রকল্পটির আওতাধীন ৪জেলার কৃষকদের জমিতে সেচ সরবরাহের লক্ষ্যে সে সময়ই প্রকল্প এলাকায় খনন করা হয় ১‘শ ৯৩ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল, ৪‘শ ৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল, ৯‘শ ৯৫ কিলোমিটার উপশাখা খাল, ৯‘শ ৭১ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল। নির্মান করা হয় ২হাজার ১‘শ ৮৪টি জলকাঠামো।

এই প্রকল্পটি চালু রাখতে প্রতি বছর ব্যায় হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরেও প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ কৃষক এই সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেচ পাম্প ষ্টেশনের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী তৈয়মুর রহমান জানান, সেচ প্রকল্পের মুখে বালির স্তুপ। এখন পাম্প বন্ধ। খনন কাজ চলছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম সফিক জানান, পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় পাম্পের প্রধান ইনটেক চ্যানেলের মুখে পলি ও বালুচর জমে উঠেছে। প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা ইনটেক চ্যানেলে খনন কাজের জন্য ব্যয হবে। ২০১৮ সালে জানুয়ারী ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে পাম্প চালু করতে না পরলে। কৃষকদের চরম খতি হয়ে যাবে। চাষীরা জমিতে পানি না পেলে মাঠে ফসল তৈরী করতে পারবে না।

পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ও লালন শাহ্ সেতুর ১ কিলোমিটার ভাটিতে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে প্রজেক্ট)। সেচের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সরকার ১৯৫৪ সালে ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। ১৯৬৯ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ১হাজার ৬‘শ ৬৫কিলোমিটার সেচ খাল দিয়ে বছরে দু‘বার সেচ দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার কৃষককে সেচ সুবিধা দেওয়া হত। প্রকল্পের পাম্প ষ্টেশনের প্রধান ইনটেক চ্যানেলে এখন কোন পানি নেই। জমে আছে বিশাল পলিমাটি। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা গচ্ছা দেয়ার মাধ্যমে ড্রেজিং করে এ ইনটেক চ্যানেল সচল করা হয়ে থাকে। এ সেচ পাম্প দিয়েই কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোর জেলার ১৩ টি থানায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান পানির উৎস পদ্মা নদী। পাম্পটি চালু করতে যেমন প্রয়োজন ইনটেক চ্যানেলে পানি তেমনি প্রয়োজন সমুদ্রপূষ্ট থেকে পানির স্তর ১৮ ফুট উচু হওয়া। কিন্তু পদ্মা নদীতে প্রয়োজনীয় পানির লেভেল নেই। ফারাক্কার বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং পানি চুক্তি করেও পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় পদ্মা এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। চারিদিকে শুধু ধু ধু বালুচর। পদ্মা এখন ছোট নদীতে পরিনত হয়েছে। কমে গেছে এর গভীরতাও। পানি না থাকায় জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান ইনটেক চ্যানেলের প্রবেশ মুখে বিশাল পলিমাটি জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যেভাবে চলছে জিকে সেচ প্রকল্প এমন অব্যাহত থাকলে একদিন পানির অভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে দেশের বৃহত্তম এই সেচ প্রজেক্ট। প্রকল্পটি সচল এবং দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল কে খাদ্যে স্বনির্ভর করতে সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে এন্ট্রি ফারাক্কা তথা গঙ্গা ব্যারেজ নির্মান।

সর্বশেষ

কুষ্টিয়া কুমারখালী | পোড়া কয়লা বিক্রি করে ভাগ্য বদল, মাসে আয় দুই লাখ

জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন গাছের কাঠ। এই কাঠ পুড়েই হয় কয়লা। আর...

যুক্তরাজ্যে বিদেশি শিক্ষার্থী কমাতে চান ঋষি সুনাক

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিম্ন মানের ডিগ্রি নেওয়া এবং নির্ভরশীলদের যুক্তরাজ্যে আনার...

ভারতীয় সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে কুষ্টিয়ার ফুল ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব হত্যার পরিকল্পনা

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ফুল ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব (৫৪) হত্যার পর দ্রুততার সাথে রহস্য উদঘাটন করেছে...

যশোরে প্রধানমন্ত্রী | ‘নৌকায় ভোট দিয়ে জয়ী করুন, যা চাইবেন তার চেয়ে বেশি দেব’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরবাসীর কাছে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার যশোর...

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় বাউলদের উপর হামলা | প্রতিবাদ, বিচার দাবি

কুষ্টিয়ায় বাউলদের উপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ঘটনায় জড়িতদের...

কুষ্টিয়া করোনা আপডেট: আক্রান্ত হাজার ছাড়াল | নতুন শনাক্ত ৪৫ জন

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে গত ২৪ ঘন্টায় কুষ্টিয়া জেলার ১২৮ টি রিপোর্ট...

কোরবানির পশুর হাট: কুষ্টিয়ায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি | বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কুষ্টিয়ার পশুর হাটে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে। করোনার ভয়াবহ সংক্রমণের...