Tuesday, March 21, 2023
প্রচ্ছদখুলনা বিভাগমেহেরপুরচায়ের কাপেই গাংনীর ৪ এতিম ভাই বোনের স্বপ্ন

চায়ের কাপেই গাংনীর ৪ এতিম ভাই বোনের স্বপ্ন

Published on

বাবা মাকে হারিয়ে অথয় সাগরে ভাসছে মেহেরপুরের গাংনীর কসবা গ্রামের ৪ অবুঝ শিশু। মায়ের মৃত্যু’র পর অবুঝ শিশুদের ছেড়ে তাদের বাবা নতুন বিয়ে করে সংসার পেতেছে অন্যত্র। বাবা মাকে ছাড়াই বৃদ্ধ দাদার ঘরে অনাহারে অর্ধহারে অবহেলায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ঐ শিশুরা। ছোট তিন ভাই বোনের আহার ও পড়াশুনার খরচ জোগাতে ভাঙ্গাচোরা চায়ের দোকান দিয়েছে শিশু আশিক (১২)।

শিশু আশিক জানায়- মুস্তাকিম (১০), কুলসুম (৮) ও রিয়াজ (৬) নামের তিন ভাই বোন রয়েছে মায়ের মৃত্যু’র পর বাবা অন্যত্র বিয়ে করে তাদের ছেড়ে চলে গেছে। বৃদ্ধ দাদা-দাদীর কাছে থাকে সে সহ তার ভাই বোনেরা। বৃদ্ধ দাদার অভাবের সংসার ঠিকমত চলেনা দু’বেলা দুমুঠো ভাতও জোটেনা। পরে বাড়ির সাথে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে ভাই বোনদের পড়াশুনা ও দু’বেলা আহার জোটানোর চেষ্টা করছি।

আশিক আরো জানান, তারা কুড়ে ঘরে থাকেন পানিতে ভিজে অনেক রাত কাটাতে হয়েছে। তাই একটি দোকান ও থাকার জন্য একটি ঘর হলেই চার ভাই বোন মিলে কিছুটা শান্তির সাথে থাকতে পারবো। অবুঝ শিশু আশিকের দাদী

সালমা খাতুন জানান, ৪ শিশুকে নিয়ে তিনি মহাবিপাকে পড়েছেন। অভাব অনটনের সংসারে তাদের ঠিকমত খেতে দিতে পারিনী। শিশুরা বিভিন্ন সময়ে মায়ের জন্য কান্না করে। মা আসছে আসবে বলে অনেক সময় তাদের ঘুম পাড়িয়ে দিই। এভাবে চলে তাদের জীবন সংগ্রাম। সরকারীভাবে সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। শিশু রিয়াজ জানায় সকালে সে নুন (লবন) দিয়ে পানতা ভাত খাইছে। সে বলে আমাদের মা নেই তাই কেউ ভালোবাসেনা ঠিকমত খেতেও দেয়না।

স্থানীয়রা জানায়, অবুঝ শিশুদের মা মনোয়ারা খাতুনের মৃত্যু’র পর তাদের বাবা ধানখোলা ইউনিয়নের কসবা গ্রামের রাশিদুল ইসলাম পুনরায় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করলেও ৪ শিশুর খোঁজ খবর নেয়না। শিশুদের দাদা বৃদ্ধ নালান হোসেন অনেক কষ্ট করে কোন রকম দু’বেলা দু’মুটো ভাত কাপড়ের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করে। কিন্তু বয়সের ভারে নালান হোসেন ঠিকমত কোন কাজ করতেও পারেন না। বৃদ্ধ দাদার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সব স্বপ্ন শেষ করে সংসারের বোঝা মাথায় তুলে নিয়েছে কিশোর আশিক।

আশিকের দাদা জানান, কি বলবো বাবা ৪ শিশুকে নিয়ে কষ্টের সংসার চলছে। বয়স হয়েছে ঠিকমত চলাচল করতে পারিনী। কি করে অবুঝ শিশুদের মুখে ভাত তুলে দেবো সেই ভাবনায় থাকতে হয়। সরকারীভাবে যদি মাসে ৩০ কেজি চাউল, দোকান সংস্কার করে কিছু মালামাল উঠানো যেত তাহলে হইতো কষ্টটা কিছুটা হলেও লাঘব হতো।

ধানখোলা ইউপি সদস্য কসবা গ্রামের বাসিন্দা নিলু জানান, অবুঝ শিশুদের দেয়ার মত সরকারী ভাবে বরাদ্দ কিছু নেই। তবে তাদের সহায়তার জন্য সকলেল এগিয়ে আসা উচিৎ।

ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান জানান, পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যক্তিগতভাবে তাদের সহায়তা করার আশ্বাস দেন তিনি।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান, অবুঝ শিশুদের খোঁজ খবর নিয়ে সহায়তা করা হবে।

আশিকের পরিবারের মোবাইল নম্বর ০১৩০৮-৯০২৩৪০।

সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

পাসপোর্ট সংশোধনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যুর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট...

আরও পড়ুন

মেহেরপুরে ইয়াবাসহ কারারক্ষী আটক

মেহেরপুরের খন্দকারপাড়ায় জেলা কারাগারের পাশে অভিযান চালিয়ে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ আব্দুল আলিম বিশ্বাস নামের...

জমি বিক্রির টাকার জন্যই সুন্দরীকে হত্যা করে ঘাতকরা

জমি বিক্রির আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পারিবারিক কলহের জেরেই পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুন্দরী খাতুনকে...

মেহেরপুরে এক পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত

মেহেরপুরে নতুন করে সাতজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টার দিকে এ...