Friday, December 2, 2022
প্রচ্ছদকুষ্টিয়াকুষ্টিয়া সদরগভীররাতে সরকারী হাসপাতাল থেকে প্রসূতি রোগী ভাগিয়ে নেয়া হচ্ছে ক্লিনিকে!

গভীররাতে সরকারী হাসপাতাল থেকে প্রসূতি রোগী ভাগিয়ে নেয়া হচ্ছে ক্লিনিকে!

Published on

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে গভীর রাতে প্রসূতি রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে অদক্ষ আয়া দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করাতে গিয়ে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রসূতি ও মৃত নবজাতককে তরিঘরি করে ইজিবাইক যোগে জোরপূর্বক বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাযায়, কুষ্টিয়ার ভেরামারা বহলবাড়িয়া চন্ডিপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্র রবিউলের স্ত্রী বিথী খাতনের প্রসব ব্যাথা শুরু হলে তাকে মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছিল বিথীর। রাত ২ টার দিকে সেখানে হাজির হয় শহরের পৌর গোরস্তানের পাশের পদ্মা ক্লিনিকের দালাল শরিফুল। সে রোগীর স্বজনদের জানায় রোগী হাসপাতালে থাকলে বাচ্চাকে বাছানো যাবে না। দ্রুত সিজারিয়ান করতে হবে এবং এই মুহুর্তে ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে। সে সময় কর্তব্য নার্সের বাধার শর্তে রোগীর স্বজনদের নানা ভাবে বুঝিয়ে স্যালাইন চলা অবস্থায় রোগী হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে যায় পদ্মা ক্লিনিকে।

রোগীর স্বজনরা জানান, পদ্মা ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে রোগীর স্বজনদের কাছে থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে ভর্তি দেখানো হয় রোগীকে। সে সময় ডাক্তার নার্স না থাকায় এক আয়াকে নার্সের ড্রেস পরিয়ে রোগীকে ডেলিভারির জন্য ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরের দিকে ক্লিনিক থেকে জানানো হয় মৃত বাচ্চা হয়েছে। তবে রোগীর রিলিজ নিতে আরো ৮ হাজার টাকা দাবি করে ক্লিনিকে কর্তব্যরতরা। এ সময় মৃত বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় কান্নারত অবস্থায় ঘুরতে থাকে বাচ্চার নানী সুমিতা খাতুন। এ খবর পৌছে যায় কুষ্টিয়া সদর থানায়।

সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় মৃত বাচ্চা নিয়ে কান্না করছে এক মহিলা। তার সাথে কথা বলে জানাগেল, উনি বাচ্চার নানী। তিনি জানান, তারা কিছুই বুঝতে পারেন নি বাচ্চা টা কিভাবে মারা গেল। যখন ক্লিনিকে নিয়ে আসে তখন সেখানে কোন ডাক্তার তাদের চোখে পড়েনি। ভোরের দিকে জানানো হয় বাচ্চা মারা গেছে!

সেখানে উপস্থিত রবিউলের বড় ভাই সাব্বির জানান, হাসপাতাল থেকে অনেকটা জোর করেই স্যালাইন চলা অবস্থায় তার ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে এসেছে শরিফুল নামের এক লোক। ডাক্তার রেডি আছে নিয়ে গিয়েই সিজার করে দেবে বলে নিয়ে আসে কিন্তু আসার পরে কোন ডাক্তার ছিল না। মাঝ বয়সী এক মহিলা নার্সের ড্রেস পরে বাচ্চা নরমাল ডেলিভারীর চেষ্টা করে। পরে জানানো হয় বাচ্চা মারা গেছে। কিন্তু পরে আর ওই মহিলাকে দেখেননি বলে কেদে ফেলেন এবং বলে এর বিচার চাইবো কার কাছে?

এসময় রোগী মৃত বাচ্চাকে নিয়ে থানায় আসতে চাইলেও ক্লিনিকের মালিকের কয়েক জন জোরপূর্বক একটি ইজিবাইকে করে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্লিনিকের ডাক্তার বা নার্সের বক্তব্য নিতে চাইলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। মালিক যা করার থানাতে করবে বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এব্যাপারে সিভিলসার্জন অফিস থেকে জানানো হয়, ওই ক্লিনিকটির অনেক দিন আগেই নবায়ন বাতিল হয়ে রয়েছে ক্লিনিকটি চলছে কি না তা আমাদের জানানেই।

সর্বশেষ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইলিংয়ের সময় ক্রেন ছিড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নির্মাণাধীন দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনের পাশে পাইলিংয়ের সময় মাথার আঘাত পেয়ে দুর্ঘটনাবশত...

এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে প্রথম হলেন কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী নাজিফা

এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে প্রথম হয়েছে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিফা...

টিউশনি করে গোল্ডেন এ প্লাস পেলেন কুষ্টিয়ার জমজ দুই বোন

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগী। টিউশনি করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন...

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে আ.লীগ-বিএনপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।...

আরও পড়ুন

এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে প্রথম হলেন কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী নাজিফা

এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে প্রথম হয়েছে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিফা...

হামলার বিচার না হলে আত্মহত্যার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি...

কুষ্টিয়া করোনা আপডেট: আক্রান্ত হাজার ছাড়াল | নতুন শনাক্ত ৪৫ জন

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে গত ২৪ ঘন্টায় কুষ্টিয়া জেলার ১২৮ টি রিপোর্ট...