Tuesday, December 6, 2022
প্রচ্ছদবাংলাদেশ‘খারাপ কাজ না করলে সুঁই দিত’-সৌদিফেরত নারী

‘খারাপ কাজ না করলে সুঁই দিত’-সৌদিফেরত নারী

Published on

‘তারা আমার লগে খারাপ কাজ করতে চাইত। খারাপ কাজ না করলে সুঁই দিত। হাত মিলাইবার কথা কইয়া সুঁই (ইনজেকশন) দিত। যখন সুঁইগুলা দিত, তখন মাথা ঘুইরা পইরা যাইতাম, অজ্ঞান হইতাম; কিচ্ছু কইতে পারতাম না’, এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সৌদিফেরত নির্যাতনের শিকার নারী জোছনা (ছদ্মনাম)।

গৃহকর্মী হিসেবে সৌদিতে গিয়েছিলেন জোছনা। সেখানে একটি বাসায় ছিলেন সাত মাস। কিন্তু এই কয় মাসে বাসার মালিক, মালিকের স্ত্রী ও সন্তানরা তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ তার। নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না তিনি। কিছু সঠিক তথ্য দিলেও বেশির ভাগ সময়েই তিনি উল্টাপাল্টা বকছিলেন। অবশ্য বাসার মালিক তাকে ইনজেকশন দেওয়ার পর আর কী হতো, তা বলতে পারেননি জোছনা।

গত ২১ জুলাই, শনিবার রাত ৯টার দিকে এয়ার এরাবিয়ার একটি বিমানে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া ৪৩ জন নারী দেশে ফিরেছেন। তারা সকলে সৌদির ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে ছিলেন। তাদের মধ্যে জোছনাও ছিলেন একজন।

সৌদিফেরত অন্য নারীদের অবস্থা স্বাভাবিক মনে হলেও জোছনা ছিলেন পুরোপুরি অস্বাভাবিক। শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট থেকে নামার পর তাকে এক নারীর মাধ্যমে বের করে আনা হয়। এরপর তাকে কিছুক্ষণের জন্য একটি মালবাহী স্ট্রেচারে বসিয়ে রাখা হয়। পরে তার হাতে ব্র্যাকের অভিবাসন শাখা থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবকরা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। সেই খাবার খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে জোছনার কথা হয় প্রিয়.কমের সঙ্গে।

সৌদিফেরত ওই নারী মাঝেমধ্যে তার বাবার নাম, গ্রাম, জেলার নাম বলতে পারলেও পরক্ষণই আবার সব ভুলে যাচ্ছিলেন। বারবার সৌদির সেই বাসার মালিকের নির্যাতনের গল্পগুলো আওড়াচ্ছিলেন, আর বাংলা, আরবি মিশিয়ে কী কী সব বলছিলেন! বারবার তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করার কথাও বলছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বাসার মালিক কেন ইনজেকশন পুশ করতেন, তা তিনি নিজেও জানতেন না।

জোছনার ভাষ্য, তাকে কেন ইনজেকশন দেওয়া হতো, তা তিনি বুঝতে পারতেন না। তারা (সৌদির ওই বাসার লোকেরা) খারাপ কাজ করতে চাইলে বাঁচার জন্য তিনি সবার সামনে বসে নামাজ পরতেন। তার শরীরে ৩০টা ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। তার মালিক বলতেন, ইদরা (আরবিতে ইনজেকশন) ভালো, এটা বলেই ইনজেকশন পুশ করত।

ইনজেকশন তার শরীরে পুশ করার পর কেমন অবস্থা হতো জানতে চাইলে জোছনা বলেন, ‘আমার মাথা ঘুরান দিয়া পইরা যাইতাম। মাটিত পইড়া অজ্ঞান হইয়া যাইতাম। ওরা আমারে মাইরা পাগল বানাইছে। আল্লাহ ওগো বিচার কইরবে।’

জোছনা জানান, তার কোনো একসময় বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে সংসার করা হয়নি। সৌদি যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বাবার বাড়িতেই থাকতেন। বাড়তি আয়ের আশায় দালালের মাধ্যমে সৌদি পাড়ি জমান তিনি। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে জোছনা যে দেশে ফিরছেন, খবরটি সে আসার দিন পর্যন্ত জানতে না তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তার পরিবারকে ব্র্যাকের অভিবাসন শাখার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে। অবশ্য এখনো ব্র্যাকের অভিবাসন শাখায় তাকে রাখা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জোছনাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন শাখার সংশ্লিষ্টরা।

ওই নারী আরও জানান, সৌদিতে যাওয়ার পর তাকে একটি বাসায় কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শুরুর প্রথম দিনেই বাসার মালিক তাকে গভীর রাতে ডেকে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি হয়নি। পরে আবারও তাকে একই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বাসার মালিকের বারবার দেওয়া প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার ওপর নির্যাতন ‍শুরু হয়। প্রথমদিকে তাকে মারধর করা হতো। কিন্তু শেষের দিকে গিয়ে তার শরীরে জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করত মালিক ও মালিকের স্ত্রী। এরপর কী ঘটত, কিছুই বলতে পারতেন না তিনি।

শুধু তাই নয়, তার মাথায় গরম চা-ও ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। হাতে গরম লোহার ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়। প্রতিদিন তাকে খাবার না দিয়ে প্রতি তিনদিন পরপর খাবার দিত বাসার মালিক। আর তিনতলা বাড়ির পুরো কাজ তাকে একাই করতে হতো। কাজে কোনো হেরফের হলেই মালিকের বউ ও মেয়ে মারধর করত। সাত মাসে মাত্র দুবার তাকে তার গ্রামের বাড়িতে ফোন করতে দেওয়া হয়েছে। আর বেতন দেওয়া হতো প্রতি তিন মাস পরপর। অর্থ্যাৎ, তাকে মাত্র দুবার বেতন দেওয়া হয়েছে। বাকি বেতনের টাকা তিনি পাননি। অবশ্য কোন এজেন্সির মাধ্যমে তিনি সৌদিতে গিয়েছিলেন, তা জানাতে পারেননি জোছনা।

সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল ২ প্রাণ

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে...

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইলিংয়ের সময় ক্রেন ছিড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নির্মাণাধীন দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনের পাশে পাইলিংয়ের সময় মাথার আঘাত পেয়ে দুর্ঘটনাবশত...

এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে প্রথম হলেন কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী নাজিফা

এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে প্রথম হয়েছে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিফা...

টিউশনি করে গোল্ডেন এ প্লাস পেলেন কুষ্টিয়ার জমজ দুই বোন

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগী। টিউশনি করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন...

আরও পড়ুন

পদ্মা ও মেঘনা নদীর নামেই হচ্ছে দুই বিভাগ

অবশেষে দুই নদীর নামেই হচ্ছে নতুন দুটি প্রশাসনিক বিভাগ। এর মধ্যে বৃহত্তর ফরিদপুরের কয়েকটি...

রেড, গ্রিন ও ইয়োলো জোনে ভাগ হবে দেশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংক্রমণ ও মৃতের হার বিবেচনায় পুরো দেশকে রেড, গ্রিন ও ইয়োলো জোনে ভাগ করা...

করোনাভাইরাস: লাইভ আপডেট | সাম্প্রতিক বিশ্ব

নভেল করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ এরই মধ্যে মহামারি হিসেবে ছড়িয়েছে বিশ্বের ২১৩টিরও বেশি দেশে।...