Sunday, February 25, 2024
প্রচ্ছদকুষ্টিয়ামিরপুরকুষ্টিয়া মিরপুর পৌর এলাকার ৬৩ গোরখোদক'র খবর রাখেনা কেউ

কুষ্টিয়া মিরপুর পৌর এলাকার ৬৩ গোরখোদক’র খবর রাখেনা কেউ

Published on

ঠিকানা শুধু এক সমাধি সাড়ে ৩ হাত মাটি। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া বিখ্যাত এই গানটির শেষ সমাধি বা ঘর নির্মাতাদের বলা হয় গোরখোদক। 

রাজধানী, বিভাগীয় শহর, এমনকি অনেক জেলা ও উপজেলা শহরের অনেকস্থানে পারিশ্রমিকের বিনীময়ে গোরখোদকরা কবর খোঁড়ার কাজ করলেও সাবেক মিরপুর ইউনিয়ন এবং ১৯৯৯ সালে পৌরসভায় রুপান্তর হওয়া প্রায় ২৫ হাজার লোকসংখ্যার ৯.২২ বর্গকিলোমিটার আয়োতনের ২য় শ্রেণীতে উন্নিত কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে পারিবারিক কবরস্থান ব্যাতিত ১১টি গোরস্থানে ৬৩ জন গোরখোদক যুগের পর যুগ বিনাপারিশ্রমিকে কবর খোঁড়ার মহতি কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ কবর খোঁড়ার এই মহতি কাজের সাথে জড়িত গোরখোদকদের খবর রাখেনা কেউ। 

অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে সমাজের অনেক সেকটরে ঘুষ, দূর্ণীতি, অনিয়ম রীতিমত বাসা বাঁধলেও মিরপুর পৌরএলাকার স্পর্শকাতর গোরখোদক সেকটরটির গোরখোদকরা আজও বিনাপারিশ্রমিকে কবর খোঁড়ার কাজটি করে যাবার মধ্যদিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়ে চলেছেন। সরেজমিন পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে গোরখোদকদের সাথে আলাপকালে শেষ ঠিকানা নির্মাণকারী গোরখোদকরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বললেও তাদের বেশিরভাগ জনের কথা থেকে উঠে এসেছে কবর খোঁড়ার কাজটি তারা করছেন একান্তই স্বার্থহীন মনের তাগিদ থেকে। এ কাজ থেকে তারা অতিতেও কোন পারিশ্রমিক নেননি ভবিষ্যতেও পারিশ্রমিক পাবেন এমন আশাও তারা করেন না।

গোরখোদক ও মুদি দোকানদার আনছার আলী (৬০) নিজে ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও তিনি কবর খোঁড়ার কাজ করেন ৮ নং ওয়ার্ড যোগীপোল মহল্লায় । তিনি ৪০ বছর ধরে নিজ আত্বীয়-স্বজনদেরসহ শতাধিক ব্যাক্তির কবর খুঁড়েছেন। কবর খোঁড়ার নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আনছার আলী বলেন, একটি কবর খুঁড়তে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। মৃতব্যাক্তি পুরুষ হলে মাঝা পর্যন্ত এবং মহিলা হলে বুক পর্যন্ত খুঁড়তে হয়। পুরুষ ও মহিলার ক্ষেত্রে কবর খোঁড়া কেন কমবেশি করতে হয় তা তিনি জানেন না। কবর খোঁড়ার জন্য শীত-গ্রীস্ম বর্ষা, দিন-রাত কোন নির্ধারিত সময় নেই। মৃত ব্যাক্তির কবরের জন্য বাঁশ কেটে খাবাসী ও রেলিং তৈরীতে অনেক ব্যাক্তি সহযোগীতা করলেও দিনের বেলা কবর খোঁড়ার সময় কবরের পাশে উৎসুক দুয়েকজন লোক দেখা গেলেও রাতের বেলা গহীন গোরস্থানে ২ জন গোরখোদক ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়না। তখন একজন গোরখোদকের টয়লেটসহ অন্যান্য প্রয়োজন দেখা দিলে একজন গোরখোদককে সব ভয় উপেক্ষা করে কবর খোঁড়ার কাজ চালিয়ে যেতে হয়। 

অনেক বছর আগে রাতে একটি কবর খোড়ার সময় আনছার আলী নতুন কবরের পাশে পুরাতন কবরের একটি সুড়ঙ্গ দেখে ভয়ে কবরের উপরে উঠে আসেন এবং পরে হারিকেন জালিয়ে কবরে নেমে দেখতে পান সুড়ঙ্গপথে পুরাতন কবরের মৃতদেহটিকে সর্বাঙ্গ উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে। শুধু কঙ্কালটি অবিকল পড়ে রয়েছে। 

গোরখোদকদের কাছে মৃতব্যাক্তি জীবদ্দশায় কে কোন রাজনৈতিক দল করতো কি করতোনা এটা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। তারপরও গত বেশ কয়েক বছর আগে পৌরসভার মিরপুর মহল্লায় ২জন মৃত ব্যাক্তির কবর খোঁড়ায় অপারগতা জানানোরও ঘটনা ঘটেছে । জানা যায়, জীবদ্দশায় ওই দুই ব্যাক্তি সমাজের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে কোন কারণ ছাড়াই ঝগড়া কলহে সার্বক্ষনিক লিপ্ত থাকতো। যার কারনে গোরখোদকরা তাদের কবর না খোঁড়ায় সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অন্যত্র থেকে পারিশ্রমিক দিয়ে ভাড়াকরা গোরখোদক এনে ওই দুই ব্যাক্তির কবর খোড়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

মিরপুর পৌরসভার শেষবেলার সমাধী নির্মাণকারী ৬৩ গোরখোদকদের মধ্যে ১ নং ওয়ার্ড সুলতারপুর মহল্লায় গোরস্থান ২টি। এ দুটি গোরস্থানের গোরখোদকরা হলেনঃ জুলমত আলী, ফোরকান আলী, কুতুব আলী, আজিজুর রহমান কেল্টু, আব্দুল কাদের, আব্দুস সাত্তার, আয়ুব মন্ডল ও শুকুর মন্ডল।

২ নং ওয়ার্ড কুরিপোল মহল্লায় গোরস্থান ২টি। কুরিপোল মহল্লার ২টি কবরস্থানের গোরখোদকরা হলেন ঃ শেখ দুলাল, আব্দুল জলীল, আকরাম, আজু, হাতেম, হোসেন, জহুরুল, আবু শামা, তাইজাল, রন্টু, জামশের, মেহের ও তানছের। 

বাজারপাড়া ও মোশারফপুর মহল্লা নিয়ে ৩ নং ওয়ার্ড গঠিত। ৩ নং ওয়ার্ডের একাংশ বাজারপাড়ায় গোরস্থান একটি। বাজার পাড়ার গোরখোদকরা হলেন ঃ ওমর আলী, ফজলু, হিমেল, খাদিমুল, ইশারত, আজিবর ও বড় আবুল। 

৩ নং ওয়ার্ডের মোশারফপুর মহল্লায় গোরস্থান ৩টি। মোশারফপুরের ৩টি গোরস্থানের গোরখোদকরা হলেন ঃ তনছের,রাশেদ, জহুরুল, জিন্নাহ, রাজ্জাক, নজরুল, রোকমান ফকির ও ইউসুফ মন্ডল। 

৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে মিরপুর মহল্লা। এই ৩ ওয়ার্ডে গোরস্থান ১টি। যেটি মিরপুর পৌরসভার আকার ও আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় গোরস্থান।

মিরপুর গোরস্থানে গোরখোদকরা হলেন ঃ গোলাম মোল্লা, মজিবার জোয়ার্দ্ধার, ছের মোহাম্মদ ফকির, সাদেক আলী, নূর ইসলাম, জিয়া , আবুল মন্ডল, রওশন ,তিস্তি , বাবর আলী ও শুকুর আলী মন্ডল। 

৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড নিয়ে নওপাড়া মহল্লা। নওপাড়া মহল্লায় গোরস্থান ২টি। একটি নওপাড়া অন্যটি যোগীপোল। নওপাড়া ও যোগীপোল গোরস্থানের গোরখোদকরা হলেন ঃ মজনু, মনো, মিনারুল, পলান, ফারুক, আনছার আলী, ফরিদ, টেংরা ও সামাদ কবিরাজ। 

৯ নং খন্দকবাড়ীয় মহল্লায় গোরস্থান ১টি। খন্দকবাড়ীয়া গোরস্থানের গোরখোদকরা হলেন ঃ মকবুল হোসেন, লুৎফর রহমান, মতলেব হোসেন মত, রোকমান ও আয়ুব খাঁ।

সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

পাসপোর্ট সংশোধনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যুর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট...

আরও পড়ুন

টিউশনি করে গোল্ডেন এ প্লাস পেলেন কুষ্টিয়ার জমজ দুই বোন

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগী। টিউশনি করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন...

ভারতীয় সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে কুষ্টিয়ার ফুল ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব হত্যার পরিকল্পনা

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ফুল ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব (৫৪) হত্যার পর দ্রুততার সাথে রহস্য উদঘাটন করেছে...

কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কুষ্টিয়ার মিরপুরের কাতলামারী বাজার থেকে ইয়াবাসহ টুটুল হোসেন (২২) ও তৌফিক রানা সিয়াম (২০)...