Thursday, July 18, 2024
প্রচ্ছদখুলনা বিভাগকুষ্টিয়াকুষ্টিয়া পুলিশের বিশেষ নজরদারি, চুরি ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে মাঠে স্পেশাল টিম

কুষ্টিয়া পুলিশের বিশেষ নজরদারি, চুরি ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে মাঠে স্পেশাল টিম

Published on

জেলা জুড়ে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ ও অপরাধ দমনে সতর্ক পুলিশ, মোড়ে মোড়ে চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাসী

ঈদকে সামনে রেখে সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। বিশেষ করে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জেলাবাসীকে স্বস্তিতে রাখতে পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিলসহ শহর জুড়ে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে। পাশাপাশি জেলার প্রবেশ পথগুলোতে বিশেষ চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাসী করা হচ্ছে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশের এ ধরনের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ।

পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সূত্র জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ছক তৈরি করেছে জেলা পুলিশ। অতীতের নানা বিষয় মাথায় রেখে এবার মাঠে কাজ করছে পুলিশ। অপরাধীরা যাতে অপরাধ করে পার পেয়ে না যায় সে জন্য তৎপর রয়েছে পুলিশের স্পেশাল টিম। পাশাপাশি বাইরের অপরাধীরা যাতে জেলায় প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য প্রবেশ পথগুলোতে রয়েছে কড়া নজরদারি।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ ঈদ যাতে সাধারন মানুষের কাছে স্বস্তিদায়ক হয় সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন মার্কেটগুলোতে বিশেষ পাহারা বসানো হয়েছে। কোথাও কোন চাঁদাবাজি নেই। ঈদের আগে ও পরে অনেক সময় নানা অঘটনা ঘটাতে সক্রিয় থাকে অপরাধীরা। তাই অপরাধীদের দমন করতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। যে কোন ধরনের অপতৎপরতা রুখতে প্রস্তুত পুলিশ। এ জন্য আগেভাগেই নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা পুলিশ প্রথম বারের মত এবার ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী, বাস মালিক ও সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক করে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ভবন মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সাথে বৈঠক করেছে পুলিশ।

শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রুখতে এবার গুরুত্বপূর্ণ পয়েটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু প্রধান সড়কই নয় গুরুত্বপূর্ণ গলি পথেও পুলিশের পাহারা রয়েছে। যাতে অপরাধ করে কেউ বের হয়ে যেতে না পারে।

বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মোকাররম বলেন,‘ অতীতে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সহযোগিতা পাননি। তবে এবার পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় মার্কেটগুলোতে পুলিশের বিশেষ পাহারা রয়েছে। এতে করে ছিনতাই ও চুরি কমেছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা সাহসের সাথে কাজ করতে পারছে। কোন সমস্যা হয়নি এখন পর্যন্ত।’

ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, অতীতে অনেকেই এসে চাঁদা দাবি করতো। এখন কোন চাঁদাবাজি নেই। শান্তিমত ব্যবসা করতে পারছি। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। এতে আমরা খুশি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন,‘ এসপি স্যারের নির্দেশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রায় ২৪ ঘন্টা টিউটি করতে পুলিশের প্রতিটি সদস্য। সাধারন মানুষ ভাল থাকলেও আমরাও ভাল থাকি। তাই যাতে শহরে কোন অপরাধ না হয় সে বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাতে ঢাকা থেকে যেসব নৈশকোচ আসছে সেইসব যাত্রীদেরও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শহরে কোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করছি। আর মাদক দমনেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে এক চুল ছাড় নেই।

এ বছর ঈদকে সামনে রেখে অনেক পুলিশ সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কাউকে এবার ছুটি দেয়া হচ্ছে না। সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়াতেই পুলিশ সুপার এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।

এদিকে জেলার প্রবেশ পথগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাইরে থেকে যাতে কোন অপরাধী প্রবেশ করতে না পেরে সে জন্য সবার গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুরাতন যারা চোর, ছিনতাইকারী  রয়েছে তাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। তবে রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শহরে কোন ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। এটা পুলিশের জন্য স্বস্তিদায়ক।

মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম বলেন,‘ মিরপুরের সাথে মেহেরপুর জেলার সীমান্ত রয়েছে। আগে এ রোডের কয়েকটি জায়গায় চুরি ও ছিনতাইয়ের রেকর্ড রয়েছে। এবার পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী করছে। সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাসী করা হচ্ছে। আর মাদক নিয়ে যাতে কেউ শহরে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

জেলা পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, ৭টি থানা এলাকাতেই চেক পোষ্ট রয়েছে। এছাড়া অপরাধ ঘটতে পারে এমন এলাকায় গুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের সব সদস্যকে সার্বক্ষনিক এলার্ট থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের সময় সুযোগ সন্ধানী লোকজন ও অপরাধীরা জনমনে ভীতি ছড়াতে যে কোন অঘটন ঘটাতে পারে সে বিষয়টি মাথায় নিয়ে কাজ করছে জেলা পুলিশ।

শুধু তাই নয় শহরের মেস ও আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত রেইড দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া হোটেলসহ মেসগুলোতে সন্দেহজনক কেউ আসলে পুলিশকে তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ঈদের পরও চলবে বলে জানা গেছে। পুলিশের কাজে সাধারন মানুষ  স্বস্তি প্রকাশ করেছে।’

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ ঈদের আগের ও পরের কয়েকদিন গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনায় পুলিশ কাজ করছে। এবার জেলা জুড়ে সব থেকে বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই একটি অপরাধও যেন জেলায় না হয়। সব কিছু মাথায় রেখে পুলিশ কাজ করছে। প্রতিটি সদস্যকে এলার্ট রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন দেখলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আশা করছি জেলার মানুষ স্বস্তিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে। আর ঈদের সময় কমিউনিটি পুলিশ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সাধারন মানুষকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।’

সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

পাসপোর্ট সংশোধনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যুর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট...

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

কুষ্টিয়ায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে, কলেজছাত্রীর মৃত্যুর পর যুবক আটক

কুষ্টিয়ায় একটি আবাসিক হোটেলে শয্যা বিশ্বাস (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়...