Sunday, February 25, 2024
প্রচ্ছদকুষ্টিয়াকুমারখালীকুষ্টিয়া কুমারখালীর সাড়ে ৩ লাখ জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় ৩ চিকিৎসক!

কুষ্টিয়া কুমারখালীর সাড়ে ৩ লাখ জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় ৩ চিকিৎসক!

Published on

১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কুমারখালীবাসীর একমাত্র চিকিত্‍সার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবহুল এ উপজেলায় সরকারি হিসাবে ৩,৪১,২৫৫ জন মানুষ বাসবাস করে। কিন্তু প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত আছে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক।

২০০৮ সালে সরকার ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করলেও চরম চিকিৎসক সংকটের ফলে এই হাসপাতাল থেকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভম হচ্ছে না। এই হাসপাতলে এখনও চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী এখানে ১৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৪ জন। তাদের মধ্যে ১ জন এখানে যোগদানের পর থেকেই প্রেষণে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরি করছেন। বর্তমানে চিকিৎসক আছেন মাত্র ৩ জন। এই ৩ জন চিকিৎসককেই উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে হচ্ছে।

এ হাসপাতালের বর্তমান চিত্র এতোই নাজুক ডাক্তার সংকটে ফলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা।

হাসপতালে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চারশত রোগি বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে। আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৭৫ থেকে ৮৫ জন রোগি ভর্তি থাকে। সকাল হলেই ডাক্তারের চেম্বারে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগির লাইন পড়ে থাকে। চরম ডাক্তার সংকটের কারণে বর্তমানে এ উপজেলার মানুষ চিকিত্‍সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কুমারখালীবাসী দীর্ঘ দিনের দাবি কুমারখালীর একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার সংকট দূর করে এ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ জনগণের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অক্সিজেন সিলিন্ডারেরও সংকট রয়েছে, নতুন ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্রটি এ হাসপাতালে দেওয়ার পর থেকেই প্যাকেট বদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে ইসিজি মেশিন থাকলেও সেটা বেশির ভাগ সময়ই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। তাছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা এখানে না থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীদের বাড়তি টাকা ব্যয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি করানো হলেও এনেস্থিসিয়া ও সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিনের উদ্যোগে বাইরে থেকে চিকিৎসক এনে মাঝে মধ্যে দুস্থ রোগিদের সিজারিয়ান অপারেশন করা হলেও বেশির ভাগ সময়ই অপারেশন থিয়েটার বন্ধ পড়ে থাকে। জরুরি বিভাগে মাত্র দুজন উপ- সহকারী মেডিকেল অফিসার দুই শিফটে কাজ করছেন। এর ফলে মাঝে মধ্যেই আহত অনেক রোগিকে নৈশপ্রহরি ও অফিস সহায়ককে কাটা ছেড়া, হাত, পা ভাঙার জরুরী চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা যায়।

এদিকে এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র রয়েছে এসব ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও চিকিৎসক সংকটের ফলে বন্ধের উপক্রম এ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে ১জন মেডিকেল অফিসার ও একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের চিকিৎসক পদ শূন্য। কয়েকজন ইউনিয়ন উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার প্রেষণে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চাকরি করছেন আবার কয়েকজন ঠিকমত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে আসেন না।

হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কল্লোল বলেন, কয়েক দিন আগে উপজেলার দূর্গাপুর এলাকার মাসুদ নামের এক ব্যবসায়ীর কপালে আঘাত লেগে ফেটে যায় পরে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে সে সময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। পরে তাকে নৈশপ্রহরি ও অফিস সহায়ক মিলে কোনো প্রকার অবশ করা ছাড়াই কপালে সেলাই করে দেয় কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া মতো কেউ না থাকায় ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে এসে পাশের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখিয়ে টিটেনাসের ইনজেকশন নিতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মকলেসুর রহমান বলেন, এ হাসপাতালে মাত্র দুজন উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার এই দুজনকে পালা করে ২ শিফটে কাজ করতে হয় এর ফলে প্রায়শই রোগিদের জরুরী সেবা দিতে আমাদের হিমশিম অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। আবার মাঝে মধ্যে রোগির চাপ একটু বেশি হলে এক রোগিকে দেখতে সময় লাগলে আরেক রোগির স্বজনরা আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আবার কোনো কোনো সময় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনাও ঘটে। এতো সমস্যার মধ্যে থেকেও চিকিৎসার মান বৃদ্ধি করতে আমরা জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসাররা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ৩১ শয্যার জনবলও এখানে নেই। বর্তমানে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে এতো মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি, তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে বলেন অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এ হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট দূর করা হবে কিন্তু সংকট আর দূর হয় না। এই হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের ফলে এ এলাকার জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়ে তাকে অনুরোধ করবো যাতে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট দূর করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

পাসপোর্ট সংশোধনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যুর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট...

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কুষ্টিয়ার মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সুপারি গাছে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মিঠু শেখ (১৪) নামে...

কুষ্টিয়া কুমারখালী | পোড়া কয়লা বিক্রি করে ভাগ্য বদল, মাসে আয় দুই লাখ

জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন গাছের কাঠ। এই কাঠ পুড়েই হয় কয়লা। আর...