Saturday, July 20, 2024
প্রচ্ছদখুলনা বিভাগকুষ্টিয়াকুষ্টিয়ায় ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে অনীহা থানার অফিসারদের, এসপি’র কঠোর পদক্ষেপ

কুষ্টিয়ায় ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে অনীহা থানার অফিসারদের, এসপি’র কঠোর পদক্ষেপ

Published on

বিভিন্ন মামলার আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে, ৭ থানায় পড়ে আছে ৬ হাজার ওয়ারেন্ট।

কুষ্টিয়ার ৭টি থানার অধীনে প্রায় ৬ হাজারের মত ওয়ারেন্ট (গ্রেফতারি পরোয়ানা) পড়ে আছে বছরের পর বছর। আদালত থেকে বারবার তাগাদা দিলেও এসব গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল হচ্ছে না। এমনকি থানা থেকে বহু গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ হারিয়ে যাওয়ার নজিরও রয়েছে। এ অবস্থায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত সব থানার ওসিদের এ বিষয়ে আরো যতœবান হয়ে কাজ করার পাশাপাশি দ্রুত যেসব মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সুপার কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় একটি তালিকাও প্রস্তুত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ৭টি থানার অধীনে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার জন্য কোর্ট থেকে নির্দেশনা আছে। ওইসব আসামীকে গ্রেফতারের জন্য বিচারকরা ওয়ারেন্ট ইস্যু করে সব থানায় নিয়মিতভাবে পাঠিয়ে থাকেন। আদালত থেকে বারবার তাগাদা দেয়ার পর বেশির ভাগ অফিসার ইনচার্জ (ওসিদের) অনীহার কারনে গুরুত্বপূর্ণ মামলার অনেক আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং অনেক সময় আসামীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে থানার কর্মকর্তারা এসব ওয়ারেন্ট তামিল না করে ফাইল চাপা দিয়ে রাখেন।

এদিকে এ বিষয়টি নজরে আসার পর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত দীর্ঘদিন তামিল না হয়ে পড়ে থাকা কি পরিমাণ ওয়ারেন্ট আছে তার একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করেছেন। তাতে দেখা গেছে ৭টি থানায় ৫ হাজার ৭৪৮টি ওয়ারেন্টের পরোয়ানা পড়ে আছে। এর মধ্যে জিআর ও সিআর মামলা রয়েছে।

তালিকায় দেখা গেছে, কুষ্টিয়া মডেল থানায় ১ হাজার ৬৪টি, কুমারখালী থানায়  ৩৭৪টি, খোকসা থানায় ২২৩টি, মিরপুর থানায় ৬২২টি, ভেড়ামারা থানায় ৪১৬টি, দৌলতপুর থানায় ২ হাজার ৬১৯টি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় ৪৪০টি।

এর মধ্যে এক দৌলতপুর থানাতেই পড়ে আছে ৩ হাজারের মত ওয়ারেন্ট। বেশির ভাগই মাদক  ও চোরাচালান মামলায় ওয়ারেন্ট তামিল না হয়ে আছে পড়ে আছে এ থানায়। অনেক মামলায় সাজা হয়েছে এমন আসামীরাও আছে।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজম খান বলেন,‘ দৌলতপুর অনেক বড় এলাকা। অনেকে সীমান্ত রয়েছে। প্রচুর মাদক ধরা পড়ে, মামলা হয়। আসামীরা জামিন নিয়ে এসে গা ঢাকা দেয়। তারা আর আদালতে হাজির হয় না। অনেকে এলাকা ছেড়েও চলে গেছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ওয়ারেন্টের আসামী ধরা সম্ভব হচ্ছে। তারপরও প্রতিদিনই কেউ কেউ গ্রেফতার হচ্ছে। পুরাতন সেসব ওয়ারেন্ট আছে সেগুলো নতুন করে ফের আদালত থেকে পাঠাচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি দ্রুত এসব আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ওয়ারেন্টের আসামী গ্রেফতারের জন্য বিশেষ নির্দেশনা আছে। পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কড়া নির্দেশ রয়েছে। তাই যেসব পরোয়ানার আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে তাদের গ্রেফতারের জন্য আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালন করছি। প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।’

পুলিশের একটি সূত্র ও আইনজীবিরা জানান, অনেক সময় ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে পুলিশ তেমন গা করে না। আসামীদের সাথে তাদের রফা হয়ে যায়। এসব কারনে এসব আসামীরা আদালতে হাজির না হয়ে ঘুরে বেড়ায়। আবার অনেক সময় প্রতিটি থানায় ওসিরা দুটি তালিকা করে। একটি প্রকাশ্যে অন্যটি অপ্রকাশ্যে। পুলিশ সুপার ও ডিআইজির কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে দুই রকম তালিকা করে। অনেক সময় সঠিক সংখ্যাও গোপন করা হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ অনেক থানাতেই ওয়ারেন্ট (গ্রেফতারি পরোয়ানা) তামিল না হয়ে পড়ে আছে। থানার অনেক কর্মকর্তারাও বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখেন না। তারা মাসের পর মাস বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। তাই কোন থানাকে আর ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ দেয়া হবে। নতুন একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ওসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে দ্রুত এসব ওয়ারেন্টের আসামীকে যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়। আশা করছি ওসিরা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, যারা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী এবং চোরাচালানী করে তারা গ্রেফতারের পর জামিন নিয়ে গা ঢাকা দেয়। দু’এক তারিখে আদালতে হাজির হলেও পরে আর তারা আদালতমুখী হন না। অনেক মামলায় সাজাও হয়ে যায়। এসব কারনে চেষ্টা করেও আসামী ধরা যায় না। এসব কারনে ওয়ারেন্ট  স্তপ পড়ে জমা হয়ে যায়।’

কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন,‘ অনেক থানাতেই ওয়ারেন্ট পড়ে আছে। পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজিরা বর্তমানে বিষয়টি তদারকি করছেন। কোনভাবেই থানায় ওয়ারেন্ট পড়ে থাকা চলবে না। বিষয়টি প্রতিনিয়ত পুলিশ সুপার ও আদালতে জানাতে হবে। যেসব পুরাতন ওয়ারেন্ট থানায় পড়ে আছে সেগুলো নতুন করে ইস্যু করা হচ্ছে আদালত থেকে। আমরাও আশা করছি থানায় কোন ওয়ারেন্ট পড়ে থাকবে না। এসব আসামী গ্রেফতার হলে বিচার কাজে আরো গতি আসবে।


সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

পাসপোর্ট সংশোধনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যুর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট...

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে, কলেজছাত্রীর মৃত্যুর পর যুবক আটক

কুষ্টিয়ায় একটি আবাসিক হোটেলে শয্যা বিশ্বাস (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়...

ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কুষ্টিয়ার মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সুপারি গাছে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মিঠু শেখ (১৪) নামে...

যশোর বোর্ডে পাসের হার ৯৫% | কুষ্টিয়ায় শীর্ষে জিলা স্কুল, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৩ জন

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।...