Friday, July 19, 2024
প্রচ্ছদকুষ্টিয়াকুমারখালীকুষ্টিয়ার কুমারখালিতে মৎস্য চাষের আড়ালে চলছে মাদক ব্যাবসা

কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে মৎস্য চাষের আড়ালে চলছে মাদক ব্যাবসা

Published on

বাংলাদেশের মানুষ মাছে-ভাতে বিশ্বাসী। কারন আমরা বাঙালি জাতি। এটাই আমাদের বড় পরিচয়। কিন্তু আমাদের ভেতর কিছু সৌখিন মানুষ আছে যারা দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের মতো যেন খবর পেলেই ছুটে চলে দুরন্ত গতিতে। এই মানুষ গুলি হলো মৎস্য শিকারিরা। যারা মৎস্য শিকার করে বেড়ায় সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে। যে কোন যায়গায়ই হোক না কেন ছুটে চলে দুর্দান্ত গতিতে এতটাই প্রিয় মৎস্য শিকারীদের যেনো খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে রাত দিন নদী ও পুকুর ও জলাশয়ের তীরে বসে মাছ ধরার চেষ্টা চালায়।

অথচ সেই মৎস্য শিকারীদের সাথে প্রতারণা করলো সাওতা কালি নদীর পাড়ের বাসিন্দা ভন্ড কালু।

কে এই কালু ?

বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, সাওতা কালি নদীতে এই কালু আট হাজার পাঁচশত টাকা টিকিটের মুল্য নেওয়ার পরেও মৎস্য শিকারিরা তাদের অর্থের অনুপাতসম মাছ পায় না। মৎস্য শিকারিদের সাথে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা করে চলেছে কালু নামের এই ভন্ড। তার আসল পরিচয় হলো সে এক জন প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী।

সে কুমারখালি উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নগরসাওতা গ্রামের পূর্বপাড়ার মৃত মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। শত-শত মৎস শিকারিদেরকে দিনের আলো এবং রাতের আধারে ঠকিয়ে চলেছেন মাদক ব্যাবসায়ী কালু। মৎস শিকারিরা অতি দুঃখের সহিত জানান- আমরা ইতোপূর্বে কখনও এরুপ প্রতারণার শিকার হইনি। কিন্তু কালি নদীতে মাছ ধরার সুবাদে এই কালু আমাদেরকে মারাত্নক ভাবে ঠকিয়েছে।

অনুসন্ধান সূত্রে আরও জানা যায়, এই কালু তার মৎস্য শিকার ব্যাবসার আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। পেশায় একটু ভিন্ন প্রকৃতির হওয়ায় সে প্রায়শই প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

কিন্তু মৎস্য শিকারিদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, কালুর মূল ব্যাবসা মৎস্য শিকার নয়। সে এই ব্যাবসার আড়ালে কৌশলে মাছ ধরতে আসা শিকারিদের নিকট মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে।

যেখানে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, সেখানে মাদক ব্যাবসায়ী কালু বীরদর্পে মাদক ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা আরও জানান, এর আগে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে শিকারিদের সাথে বিবাদও সংঘটিত হয়েছে। অবস্থা বেগতিক হবার আগেই প্রত্যেকবার পালিয়ে গিয়েছিলো এই কালু। পরবর্তীতে মৎস্য শিকারিরা তার নিকট গেলে সে পূর্বের কোন কথাই স্বীকার করে না। উল্টে তাদেরকে হুমকি দেয়।

উল্লেখ্য, কালু ইতোপূর্বে অনেকবার মাদকদ্রব্য সহ হাতেনাতে প্রশাসনের নিকট আটক হয়েছে। বর্তমানেও কালুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকদ্রব্য সরবরাহের মামলা চলমান রয়েছে।

মৎস্য শিকারিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা মাছ ধরার নেশায় কালুর নিকট যাই। কিন্ত সে আমাদের নিকট এসে মাদক সরবরাহের কুপ্রস্তাব জানায়। আমরা প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি-ধমকি দেয় কালু। যার ফলে আমরা জোর প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারি না। এভাবে চলতে থাকলে সে মৎস্য শিকারিদের মাধ্যমে কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তার করবে।

তাই অতিদ্রুত এ বিষয়ে মাননীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মৎস্য শিকারি ও স্থানীয় জনসাধারণ। সূত্র- স্বর্ণযুগ

সর্বশেষ

কুষ্টিয়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৭

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত সাতজন...

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে...

পাসপোর্ট সংশোধনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এনআইডির তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট রি-ইস্যুর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট...

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মামলায় বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর)...

ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কুষ্টিয়ার মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সুপারি গাছে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মিঠু শেখ (১৪) নামে...

কুষ্টিয়া কুমারখালী | পোড়া কয়লা বিক্রি করে ভাগ্য বদল, মাসে আয় দুই লাখ

জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন গাছের কাঠ। এই কাঠ পুড়েই হয় কয়লা। আর...